দেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৩১ জুলাই, ২০২৪

সরকারি খাঁচা

সরকারি খাঁচা


দু:খ কাহারে বলি,
কথা ছিল যার,
করিবে বিচার,
চালায়েছে সে-ই গুলি!
কী করে সে ব্যাথা ভুলি?

ডাকো যারে জাতি-পিতা,
তাহারি কন্যা,
খুনের বন্যা
বহায়েছে, দেখ নি তা?
কাঁদে ছেলেহারা মা অগনিতা।

চাহিতে গিয়াছি সমতা,
না দিলে না দিবি,
গলায় পা দিবি?
আছে দেখে তোর ক্ষমতা!
এ কেমন নির্মমতা!

কুকুরের পাল পুষে,
দেখাইয়া ভয়
আনবি কী জয়
জনগণ-খুন চুষে?
নাই কি রে তোরা হুঁশে?

এতো তোর গদি প্রীতি?
পাবি কি ভক্ত
ঝরায়ে রক্ত,
দেখাইয়া ভয় ভীতি?
এ কেমন রাজনীতি?

ধ্বসে যাক স্বৈরাচার,
আজ পতনের পালা।
ভেঙ্গে দিব তালা
সরকারি এই খাঁচার।
আশা স্বাধীনভাবে বাঁচার।


তারিক মোঃ নাসিম
৩১ জুলাই, ২০২৪

published on this Facebook post.

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪

শেখের তরী

শেখের তরী

সড়কে গরজে "শেল", ঘন ধোঁয়াশা।
পথ পানে চেয়ে আছি, বুকে হতাশা।
সারি সারি ট্রাকে ভরা
“গান” হাতে এলো তারা,
রাজপথে খুনধারা
বহে সহসা;
কাঁদিতে কাঁদিতে জাতি হারায় ভাষা।

অজস্র কচি মুখ থামিয়ে খেলা,
ন্যায়ের দাবিতে নেমেছিল সে বেলা,
নিমেষেই দেখি চেয়ে
সরকারী গুলি খেয়ে
দেহগুলো খুনে ছেয়ে
লাশের মেলা।
পুত্র হারায়ে মা-টি কাঁদে একেলা।

“গান” নিয়ে, ছুড়ি হাতে যে আসে তেড়ে!
মুখোশের আড়ালেতে চিনি উহারে।
মেরে-কেটে চলে যায়,
জনগণ নিরুপায়,
দেশ লুটে পুটে খায়
সে জানোয়ারে,
জানি গো পাঠালো কোন্‌ "বুড়ি" তাহারে।

হায়া নাই, লাজ নাই! হীন সে বুড়ি!
আমারি ভাইয়ের খুনে রাঙালো চুড়ি!
নিকৃষ্ট সে হৃদয়,
সততার অভিনয়,
মিছা মাতে, কথা কয় -
গাঞ্জাখুড়ি।
দেশবাসী জানে তার ছলচাতুরী।

যতো চায় লুটে খায় অর্থ কড়ি,
উজার করিল দেশ, "নৌকা" ভরি'।
"চেতনা"র ধোঁয়া তুলে,
আদর্শ, নীতি ভুলে,
অহম-দম্ভে ফুলে
ঘুরায়ে ছড়ি,
লুটে পুটে লয়ে যায় শেখের তরী।

বেচে দিতে চাও দেশ কোন্ বিদেশে!
কী খেলা খেলিছ তুমি সর্বনেশে! 
হে দিক-ভ্রান্ত “নাও”
এবার ক্ষ্যান্ত দাও।
আর কত দিতে চাও
পরের দেশে
মায়ের রক্ত শুষে, জালিম বেশে?

---
তারিক মোঃ নাসিম
২৪ জুলাই, ২০২৪


published here on Facebook.

শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪

নৌকাডুবি

নৌকাডুবি

 
“নাও” পুড়াইয়া দে,
BAL উড়াইয়া দে,
দপদপাইয়া জ্বলুক রে “নাও”
পদ ছাড়িয়া দিয়া রে আজ পথ ছাড়িয়া দিয়া।

বাংগালি দামালি ছাওয়ে নাওয়ের বাদাম ফাঁড়ে,
আরে নাওয়ের বাদাম ফাঁড়ে,
উথালি পাথালি খুন ছলাৎ ছলাৎ করে,
বুকে ছলাৎ ছলাৎ করে।
আরে খলখলাইয়া হাইসা উঠে
“নৌকা”র হালত চাইয়া, হাসে “নৌকা”র হালত চাইয়া।

---

পুনশ্চঃ “দল-শিবিরের” লোকজন আবার আমার প্রেমে হাবুডুবু খাইয়েন না। আপনাদের উদ্দেশ্যে -

“ইশারায় (ধানের) শীষ দিয়ে আমাকে ডেকো না,
মদূদীর চোখ দিয়ে আমাকে দেখো না।”

আমাদের দরকার টোটাল রিফর্ম, গুয়ের এই পিঠ ওই পিঠ কোনোটার গন্ধই আমরা নিতে চাই না।

published on this Facebook post.

চাটনশীল

চাটনশীল


শোনো! তোমাদেরই বাড়াবাড়ি,
মোরা আগ্রাসী না।
রাম-দা, বুলেট, শেল,
মোটে প্রাণনাশী না।
আর, পথে পথে ফেলা?
সেতো মানুষের লাশই না!
মানুষ হলেই বা কি?
সে-তো "চেতনা"র দাসই না!
আজি এ ক্রান্তিকালে
আমি উন্নাসী না।
তবে, ঝামেলা হয়েছে যেটা-
হৃদয়েতে হাসিনা,
তাই ঝেড়ে কাশি না,
ইনিয়ে বিনিয়ে বলি
নিয়ে কোনো পাশই না।
দায়সারা বুলি ছাড়ি,
সত্য প্রকাশি না।
আ.লীগে সপেছি দিল,
দেশ ভালো বাসি না।


তারিক মো: নাসিম
১৯ জুলাই, ২০২৪

published on this Facebook post.

মঙ্গলবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৮

"ক্রসফায়ার"




আমাদের উঠতি বয়সের যুবকদের মাদকাসক্ত হওয়া ঠেকাতে না পারা, তাদের সময়মত নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারা, পশুপ্রবৃত্তির লাগাম টেনে ধরার শিক্ষা দিতে না পারা …
এবং ফলশ্রুতিতে
আমাদের মা - বোন - শিশুদেরকে ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা করতে না পারা, আমাদের পথচারীদের ছিনতাইকারি’র হাতে খুন হওয়া ঠেকাতে না পারা …
এগুলা যেমন আমাদের ব্যার্থতা,
তেমনি,
কোনরকম বিচারের মধ্য দিয়ে না গিয়ে, গুলি করে মেরে ফেলাটাও আমাদের আইন প্রয়োগে বিশাল সাফল্যের কোন সূচক না।

আমার মতো আবেগ-তাড়িত সাধারণ মানুষের মন চায়, “এইসব বিচার ফিচারে মধ্যে যাওয়ার দরকার কী?… চিপায় নিয়া গুলি কইরা মাইরা ফালাইলেই হয়…”। এবং দিনশেষে আমাদের এই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনই ঘটছে আমাদের প্রশাসনের কর্মকান্ডে। দু-চারটা শিয়াল কুকুর মেরে যদি তড়িৎ গতিতে কোটি কোটি মানুষের মনোরঞ্জন করা যায়, সে সুযোগ কে না লুফে নেয়?
মাঝে মাঝে হয়তো ছোটখাটো কিছু সমস্যা হবে, শিয়াল কুকুরের জায়গায় দুই একটা নিরীহ মানুষের বাচ্চা মারা পড়বে… এবং সেটা কেউ কোনদিন টেরও পাবে না। দু চারটা ছোটখাটো পরিবার তছনছ হয়ে যাবে … বৃহত্তর স্বার্থে হয়তো এক দুইটা নিরীহ পরিবারের ধ্বংস হয়ে যাওয়া খুব ছোট বিষয়।
(এই পর্যায়ে এসে সেই ধর্ষনের শিকার হওয়া পরিবারটার অবর্ণনীয় কষ্টের কথাও আপনার মাথায় আসবে স্বাভাবিকভাবেই। এর মাঝে কোন্‌ পরিবারের দুঃখ লাঘব করা বেশি জরুরী সেটা নিরূপণ করার উপায় নিয়েও আপনার মাথায় চিন্তা আসতে পারে …  সেক্ষেত্রে এই লেখার দ্বিতীয় অংশ পড়ার অনুরোধ করবো।)

ব্যাপারটার ভয়াবহতা আমি এখন টের পাচ্ছি না, হয়ত “মাইরা ফালাইছে ভালো করছে, এইগুলারে এমনেই মারা উচিত” বলে হাততালি দিচ্ছি। কিন্তু ভয়াবহতা টের পাবো, যখন “উপরমহলের” চাপে পড়ে, ন্যায়বিচারের কৃত্রিম আবহ সৃষ্টির প্রয়াসে,  জনগণমনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে প্রশাসন আমার আপনার ঘর থেকেই কাউকে (হয়তো আমাদের কোন এক ছোট ভাই/ নিকটাত্মীয়কে) অস্ত্রোদ্ধারের উদ্দেশ্যে জীবন্ত নিয়ে যাবে এবং লাশ ফেরত দিবে। পরদিন আপনার পরিবারে যখন আপনার নিরপরাধ আত্মীয় হারানোর শোকের মাতন, তখন পুরা দেশ স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলবে, “যাক পুলিশ/র‍্যাব অনেক তৎপর, হারামীডারে সাথে সাথে ধইরা মাইরা ফালাইছে”।

ফুলের মতো শিশুদেরকে যেসব শিয়াল কুকুর ছিন্নবিচ্ছিন্ন করছে, তাদের বিচার যেমন জরুরী, ঠিক তেমনভাবে এটা নিশ্চিত করাও জরুরী যে কোন নিরপরাধ ব্যাক্তিকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হচ্ছে না।

বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে আমি বিশ্বাস করতে চাই -  আমাদের র‍্যাব - পুলিশ - প্রশাসনে সৎ, চৌকশ এবং দক্ষ লোকজনের অভাব নাই, এবং তারা অন্তত এটুকু নিশ্চিত করছে যে নির্দিষ্ট অপরাধে দোষী ব্যাক্তিই এইসব “অনিচ্ছাকৃত ক্রসফায়ারজনিত দুর্ঘটনায়” মারা পড়ছে।




রেললাইনের উপর আপনি একটা ‘ট্ট্রলি কার’ চালাচ্ছেন, হঠাৎ খেয়াল করলেন যে ট্রেনের ব্রেক কাজ করছে না। সামনে পাঁচজন শ্রমিক লাইনের উপর কাজ করছে। আপনি জানেন, যদি এই গতিতে ওদের উপর দিয়ে ট্রেন চালিয়ে দেন, তাহলে সবাই মারা পড়বে। অন্যদিকে, সামনে লাইনটা বিভাজিত হয়ে আরেকটা পথে গিয়েছে; ধরুন, আপনি চাইলে স্টিয়ারিং হুইল ঘুরিয়ে সে পথেও যেতে পারেন। এবং সে লাইনের উপর মাত্র একজন লোক কাজ করছে। এক্ষেত্রে আপনি কী করবেন? স্টিয়ারিং হুইল ঘুরিয়ে ভিন্ন পথে গিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একজন মানুষকে মারবেন? নাকি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় থেকে সোজা যেমন চলছিলেন চলতে থাকবেন?
আপনি হয়তো বলবেন, “পাঁচজনকে মারার চেয়ে বরং একজনকে মারবো।”
আপনার কোন এক বন্ধু হয়তো বলবে, “আমি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে গতিপথ পরিবর্তন করে সেই একজন লোকের উপর দিয়ে ট্রলি চালিয়ে দিই, সেটা হবে পরিকল্পিত হত্যা …”।

কিছুদিন আগে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রফেসরের একটা লেকচারের ভিডিও দেখছিলাম [লিঙ্ক নিচে দেয়া আছে]
লেকচার-টা বর্তমান আলোচ্য বিষয়ের সাথে খুব বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ না। তবে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের নৈতিক বিচারের মাপকাঠি’র সাপেক্ষে সঠিক আইন প্রণয়ন যে কতো জটিল একটা বিষয় সেটা এই লেকচার-টা দেখলে কিছুটা ধারণা পাওয়া যাবে।
সেখানে এই জাতীয় বেশ কিছু বিষয়ে অভিমত চাওয়া হয় ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে। উপরে উল্লেখিত বিষয়টি খুবই সহজ একটা উদাহরণ, এরকম আরও অনেক বিষয় আছে, নৈতিকতার বিচারে যেগুলোর সঠিক উত্তর খুঁজে বের করা কষ্টকর। ছাত্রছাত্রীদের ভিন্ন ভিন্ন মতামত এবং সেগুলার পিছনে বুদ্ধিদীপ্ত যুক্তি-তর্ক শুনে আমি আশ্চর্য হয়ে খেয়াল করলাম-  নৈতিক বিচারের ভিত্তিতে সর্বজনগৃহীত মানদণ্ড প্রণয়ন করা বেশ কঠিন একটা কাজ।
এবং এটা খুব স্বাভাবিক যে এ সমস্ত আইনের প্রয়োগ চালু রাখতে গেলে আমার মতো অনেক আবেগি মানুষ কিছু কিছু বিতর্কিত পরিস্থিতিতে ভেটো দিয়ে বসবো।
এজন্য মানুষ সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই আইন নিয়ে গবেষণা করে আসছে, এবং এই গবেষণার বিষয়বস্তুর কখনো অভাব হবে না।
আমার মতো মূর্খের আইন নিয়ে আর বেশি কথা বলা মনে হয় আইনত ঠিক  হবে না।

ভিডিওটা দেখবেন। বিনোদনমূলক এবং চিন্তাউদ্রেককারী।

---
"Justice: What's The Right Thing To Do?
Episode 01: THE MORAL SIDE OF MURDER"
https://www.youtube.com/watch?v=kBdfcR-8hEY