শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

স্যান ডিয়েগো সফর - ২০১৮

আমার জন্ম ২১-শে ফেব্রুয়ারি’র খুব কাছাকাছি বলেই কি-না জানি না, মাতৃভাষার ব্যাপারে আমি একটু বেশিই উৎসাহী। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ‘উদযাপন’-এর ব্যাপারে আমরা বাংলাদেশের মানুষ যতো আগ্রহী, অন্যান্য দেশের মানুষ ততো আগ্রহী না। তাদের কাছ থেকে আশা করাও যায় না … একে তো তারা ভাষার জন্য রক্ত দেয়নি, তার উপর এই ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা-দিবস’ ব্যাপারটা’র প্রচলন হয়েছে বেশিদিন হয়নি… অনেকেই এইটার ব্যাপারে জানে না। প্রশান্ত মহাসাগরের পাড়ে ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান-দিয়েগো শহরে চারদিনের একটা সফরে গিয়েছিলাম। সফরসঙ্গী হিসেবে বিভিন্ন দেশের ছাত্র ছিল। অনেক বলে কয়ে তাদের কয়েকজনকে শুধু “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” কথাটা তাদের নিজেদের ভাষায় বলাতে পেরেছি। তারা যারপরনাই বিরক্ত হয়েছে সেটাও বুঝতে পেরেছি। নিরাপত্তা-বিষয়ক গবেষনা’র উপর কঠিন কঠিন সব কথাবার্তা (Talk) শুনিয়ে আমাদের ‘কান’ পাকানো’র মহৎ উদ্দেশ্যে ল্যাব-এর প্রফেসর-রা এই বছর গুরু-‘গাধা’ নির্বিশেষে সব পি এইচ ডি ছাত্রদেরকে মূলত ‘কান-ধরে’ই টেনে নিয়ে গেলেন Network and Distributed System Security 2018 symposium -এ। প্রফেসরদের কড়া নির্দেশঃ শুধু কান পাকালেই চলবে না, কিছুটা ‘ঠোঁটকাটা’ হয়ে সেখানে আন্তর্জাতিক-মানের যতসব গবেষক আসবেন তাঁদের সাথে জ্ঞানগর্ভ কথাবার্তা বলার ভান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করার যথাসাধ্য চেষ্টাও করতে হবে। শীতে কিছুটা ঠোঁট ফাঁটলেও সত্যিকার অর্থে “ঠোঁটকাটা” হয়ে আগ-বাড়িয়ে কথাবার্তা বলা আমার জন্য বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তার উপর এতো সব বাঘা-বাঘা গবেষক, তাঁদের সাথে কী নিয়ে কথা বলবো সেটাই বুঝে পাই না। সিম্পোজিয়াম যে হল-রুমে হচ্ছে তার এক কোনায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকি আমি আর নেপালি বন্ধু অনুষ (अनुस श्रेष्ठ)। সে-ও আমার মতো পি এইচ ডি প্রথম বর্ষের ছাত্র। স্থলাবদ্ধ দেশে বেড়ে উঠেছে সে, কখনো সাগর দেখেনি। স্যান ডিয়েগো এসে জীবনে প্রথমবার সাগরের ঢেউ দেখে আনন্দে আত্মহারা — তার উপর সেটা আবার প্রশান্ত মহাসাগর। প্রফেসরদের-দের নারাজ হওয়ার ভয়ে সারাদিন সিম্পোজিয়ামের বিরক্তিকর সব বক্তৃতা শুনলেও, তার মন সারাক্ষণ পড়ে থাকে সৈকতে। ফাঁকফোকর পেলেই দৌড়ে চলে যায় সাগর-পাড়ে, গিয়ে শিশুদের মতো ঝিনুক কুঁড়ায়, বালিতে নাম লিখে সেটার ছবি তুলে। তূর্কি বন্ধু ফারিস অবশ্য লোকজনের সাথে কথাবার্তা বলার ব্যাপারে বেশ সপ্রতিভ। সে তৃতীয় বর্ষের ছাত্র, আমাদের ল্যাবের পুরাতন লোক। গবেষণার উপাত্ত সংগ্রহের কাজে এমনিতেই তার বড় বড় কোম্পানি’র হর্তাকর্তা লোকজনের সাথে কথা বলতে হয় নিয়মিত। তবে একটু ভালোভাবে খেয়াল করে দেখা গেল, সে সেখানকার নারী বক্তাদের সাথে কথা বলার ব্যাপারে তুলনামূলক কিছুটা বেশি উৎসাহী। সিম্পোজিয়ামের প্রথমদিন ক্রিপ্টোকারেন্সি’র উপর এক জার্মান সুন্দরী’র গবেষণার উপস্থাপনা দেখে, রাতে ক্রিপ্টোকারেন্সি’র উপর বিস্তর পড়ালেখা করা সত্ত্বেও পরের দিন সেই বক্তা’র সাথে কথা বলতে গিয়ে সে যারপরনাই নাজেহাল হয়েছে এমন খবর আমাদের ল্যাবের নিন্দুকেরা রটাচ্ছে। ঘটনা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা অবশ্য ক্ষীণ। নেপালি, তূর্কি আর এই অধম বাঙ্গালী ব্যাতিত বাকি ছাত্রছাত্রী ছিল ইরানি এবং চীনা। চীনা’রা আমাদের যথেষ্ট ‘চিনা’ হওয়া সত্ত্বেও কেন যেন নিজেদের একটা গ্রুপে একসাথে গল্পগুজবে নিমজ্জিত থাকে সবসময়। এটা শুধু সিম্পোজিয়ামে না, ক্যাম্পাসে- ক্লাসে, ল্যাবে সব জায়গায়। ইরানিরাও এর ব্যাতিক্রম না। আমরা বেশ কয়েকজন বাঙ্গালী একত্রে থাকলে আমরাও হয়তো নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতাম আমাদের আড্ডডাবাজি। আন্তর্জাতিক আড্ডাবাজি যে একদম হয় নাই তা না। আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে প্রাধান্য পায় ভাষার বৈচিত্র্য। এক ফাঁকে আমি প্রস্তাব দিলাম বিভিন্ন ভাষার কঠিন কঠিন ‘টাং টুইস্টার’ খেলার। খেয়াল করে দেখলাম, এই খেলায় বাংলাভাষী হিসেবে আমার সুবিধা অনেক বেশি। অন্যরা তাদের ভাষার যেসব ‘টাং টুইস্টার’ নিজেরাই বলতে হিমশিম খাচ্ছে, আমি অবলীলায় সেগুলা বলে যাচ্ছি। অবশেষে আমি আমার সাফল্যের গোপন রহস্য উন্মোচন করলাম - বাংলা বর্ণমালায় ৫০ টি বর্ণ। পৃথিবী’র অধিকাংশ ভাষার কঠিন কঠিন ধ্বনি-ই সম্ভবতঃ আমরা অল্পায়াসে রপ্ত করে ফেলতে পারবো। সিম্পোজিয়াম চলাকালে কথা যেটুকু বলেছি সেটা সেখানে দেখা হয়ে যাওয়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত দুইজন বাংলাদেশী তরুণ গবেষক ডঃ এনদাদুল হক ভাই এবং সৈয়দ রাফিউল -এর সাথে। এছাড়া আমার মতোই কোনায় দাঁড়িয়ে থাকা স্যামুয়েল নামের একটা ছেলের সাথে কয়েকবার কথাবার্তা হয়। কনফারেন্স শেষে award দেয়ার পর দেখা গেল, Distinguished Award পাওয়া প্রথম পেপার-টার লেখক যৌথভাবে সেই স্যামুয়েল এবং এনদাদ ভাই। মন-টা ভালো হয়ে গেল, বেছে বেছে যে দুই একজনের সাথে কথা বলেছি তাঁরাই সেরা এবং এর মধ্যে আমার দেশের লোকও আছে। অবশেষে ঠোঁটকাটা হতে না পারলেও, ইচ্ছায় হোক অনিচ্ছায় হোক, সিম্পোজিয়ামের জ্ঞানগর্ভ কথাবার্তা শুনে কান কিছুটা পেঁকেছে। আমার ল্যাবমেট নেপালি, তূর্কি, চীনা, ইরানি এবং আমেরিকান যেসব ছাত্রছাত্রী ছিল, আমার ‘লেইম-জোক’ শুনে তাদের অবশ্য কান পঁচে যাওয়ার মতো অবস্থা। বাংলা ভাষায় আমার খোঁড়া-কৌতুক ইতিমধ্যেই বাঙ্গালী-সমাজে সর্বজন-নিন্দিত। সেগুলা ইংরেজি-তে অনুবাদের পরেও এতোটা নিন্দা কুড়াবে সেটা আশাতীত ছিল। যাই হোক, শিক্ষা-সফর শেষে লাভ যেটা হলো, আমার মাতৃভাষার শক্তি আরেকটু ভালভাবে অনুধাবন করলাম। তাছাড়া জীবনে প্রথমবার প্রশান্ত-মহাসাগর দেখলাম; আমার ল্যাবমেট-দের অনেকের সাথেই সম্পর্ক বেশ সহজ হয়েছে - যেটা ভবিষ্যতে পি এইচ ডি’র দূর্গম পথ পাড়ি দেয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে আশা করা যায়।
[এই লেখা Facebook-এ প্রকাশিত আমার এই পোস্ট থেকে কপি পেস্ট করা।]

শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

'আঁসু' ভেজা চোখে দেখা ভেজা ASU

বৃষ্টি-ভেজা ASU -- খুবই বিরল দৃশ্য। 
"arid zone" Arizona-তে বৃষ্টির দেখা পাওয়া যায় কালেভদ্রে।

বৃষ্টি দেখলে দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে গিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে মন চায়।
"ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের বাইরে" -- কবিগুরুর সাথে আমার এইখানে কিছুটা মতানৈক্য।
(অবশ্য ছোটবেলায় স্কুলে যাওয়ার সময় বৃষ্টি নামলে কবিগুরুর এই বাণী অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করতাম ... হাজার হোক কবিগুরু তিনি, মাঝে মাঝে তো অন্তত গুরুর কথার গুরুত্ব দেয়া লাগে।)

গত পরশুদিন ঘুম থেকে উঠে বাইরে বৃষ্টি দেখে দ্রুত ঘর বের হয়ে গেলাম। সেদিন সারাদিনই বৃষ্টি হয়েছে, গুঁড়ি-গুঁড়ি; বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে দেশে যেমন হয়। মেঘলা আকাশ, ভেজা রাস্তা, এইসব দেখে  বাংলাদেশের সমস্ত বাদল দিনের স্মৃতি একসাথে হানা দেয় মনে, চোখের কোনায় দুই এক ফোঁটা পানি জমে -- বৃষ্টির পানিই হবে হয়তো।

মনে পড়ে যায় ১০-১১ বছর আগে এক দিনের কথা। সেদিন SUST ক্যাম্পাসে প্রচণ্ড বৃষ্টিতে অনেকক্ষণ ভিজেছিলাম - সাথে ছিল "কবি-রাজ" Farhad। (কবি-রাজ খেতাবটা আমারই দেয়া অবশ্য)। এই ক্যাম্পাসে কবি-রাজ এর মতো সেইরকম ভাবের-ঘোরে আচ্ছন্ন ভবঘুরে সঙ্গী পাওয়া যায় না। এইখানকার মানুষ রোবটের মতো - এরা শখ করে বৃষ্টিতে ভিজে না, 'শর্ট-সার্কিট' হয়ে যাবে এই ভয়েই সম্ভবত। এইখানেও ক্যাম্পাসের আশেপাশে পাহাড়ের অভাব নাই, কিন্তু এই ক্যাম্পাসে কাওসার, Salak, Tareq নাই যাদেরকে নিয়ে ক্যাম্পাসের আশেপাশের সমস্ত পাহাড়ি এলাকা, রাস্তাঘাট যখন-তখন হেঁটে-হেঁটে চষে বেড়ানো যায়...।

'আঁসু' ভেজা চোখে ভেজা ASU দেখলাম বেশ কিছুক্ষণ ঘুরে ঘুরে। 
দেশের অভ্যাস মতো কিছুক্ষণ পরপর পিছন ফিরে দেখছিলাম প্যান্টের পিছন-টায় কাদা লাগলো কি-না -- দেখা গেল পরিষ্কারই আছে। এখানে বৃষ্টিভেজা রাস্তায় হাঁটা দেশের তুলনায় আরামদায়ক, প্যাঁক-কাদা নাই। রাস্তাঘাট একদম ঝকঝকে।

প্যাঁক-কাদাহীন, এমন মসৃণ রাস্তায় পথচলা এতো কষ্টকর হবে সেটা তো আগে বুঝতে পারি নাই।
[এই লেখা Facebook-এ প্রকাশিত আমার এই পোস্ট থেকে কপি পেস্ট করা।]

বুধবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৭

"লোহিত পর্বত" (Red Mountain) এর পাদদেশে যাওয়ার প্রথম ব্যার্থ প্রচেষ্টা

এই Red Mountain এরিজনা আসার পর থেকেই আমাকে চূড়া-ছানি দিয়ে ডাকছে আর কানে কানে ফুসমন্তর দিয়ে যাচ্ছে "তুই লাল পাহারি দেশে যা ... হিত্থাক তোকে মানাইছে না রে..."। ভ্যালি-মেট্রো'র বাসে চড়ে Power-Road পর্যন্ত গেলাম। তারপর সাইকেল চালিয়ে রওয়ানা দিলাম Flat-iron Mountain লক্ষ্য করে (সেটার নাম তখনও জানতাম না, পরে বাসায় এসে map দেখে জেনেছি) মাইল সাতেক চড়াই বেয়ে সাইকেল চালিয়ে যখন মনে হচ্ছিলো প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছি, তখন map-এ মেপে দেখি এখনও অর্ধেক রাস্তা বাকি। পর্বত-জাতি মানব জাতিকে সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে এই ধোঁকা দিয়ে আসছে... ইতিপূর্বে অনেকবার এই 'হাতছানি'র ফাঁদে পড়ে এই শিক্ষা আমার ইতিমধ্যেই হয়েছে। লোহিত পর্বতের পাদদেশে এই শীতে রাত্রি যাপনের কোন ব্যাবস্থার নিশ্চয়তা পেলে বাকি পথও চলে যেতাম... আমার এই লাগামহীন দ্বিচক্রযান নিয়েই। আজকের মতো লোহিত-পর্বতকে রেহাই দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম --- অন্য কোন একদিন তাকে দেখে নিবো এই পণ করে দূর থেকেই পাহাড় গুলার কিছু ছবি তুলে ফেরার পথ ধরলাম। ফেরার সময় টের পেলাম এতক্ষণ চড়াই বেয়ে সাইকেল চালিয়েছি ... সাইকেল সাঁই-সাঁই করে নেমে যাচ্ছে - প্যাডেল খুব বেশি না চেপেই। বাসায় ফিরে ম্যাপ ঘেঁটে আবিষ্কার করলাম- আমি যাকে লোহিত পর্বত ধরে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলাম সেটা আসলে Red Mountain না। লোহিত পর্বত আসলে উত্তর দিকে, আমি গিয়েছি পূর্ব দিকে। :-( অবশ্য আমি যেদিকে যাচ্ছিলাম সেই এলাকায় বেশ কিছু ভালো হাইকিং এবং ট্রেকিং ট্রেইল আছেঃ Lost Dutchman State Park, Flatiron Mountain, Superstition Mountains, Peralta Trailhead, Lone Pine Trailhead, Browns Peak এবং Four Peaks Wilderness সেগুলাতে যাওয়ার ইচ্ছা আছে ভবিষ্যতে। শেষের তিনটা অবশ্য বেশ দুর্গম -- সেগুলাতে "বড় হলে" যাবো। বিঃ দ্রঃ ইদানীং Facebook -এ "আমার অবস্থাদৃষ্টে" (seeing my 'Status'es on Facebook) এই ভুল ধারণা হওয়া স্বাভাবিক যে পি এইচ ডি তে আমার গবেষণার বিষয়বস্তু "উত্তর আমেরিকার দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের পর্বতসমূহের রং-রূপ এবং উচ্চতা নিরূপণ" সঙ্ক্রান্ত কিছু একটা।
[এই লেখা ফেসবুকের এই পোস্ট থেকে কপি পেস্ট করা।]

মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭

ফিনিক্স এর দক্ষিণ-পর্বত (South Mountain) ভ্রমণ

ডিসেম্বরের ১১ তারিখ সকাল সকাল সাইকেল আর এক বোতল পানি নিয়ে বের হয়ে গেলাম সাউথ মাউন্টেন এ যাওয়ার উদ্দেশ্যে। Apache & McClintock Drive থেকে Valley Metro'র একাশি নম্বর বাসে চড়ে প্রথমে গেলাম বেইজলাইন রোডে, তারপর সেখান থেকে ৭৭ নম্বর বাসে গেলাম সেন্ট্রাল এভিনিউ তে, তারপর '0' (zero) নম্বর বাসে চড়ে গেলাম সাউথ মাউন্টেইন এর কাছাকাছি।
যাওয়ার পথে একটা ঘোড়ার আস্তাবল চোখে পড়লো। জীবনে ঘোড়ার আস্তাবল আগে কখনো সামনাসামনি দেখি নাই।
আমি Holbert Trail দিয়ে উপরে উঠেছি। ট্রেইল-টা অনেক ঘুরানো পেঁচানো, খাঁড়া না। এইটাতে উঠা তুলনামূলক সহজ, ক্যামেলব্যাক এর তুলনায় তো বটেই, আমাদের সীতাকুণ্ডের চেয়ে-ও। সৌন্দর্যের দিক দিয়ে Camelback - এর উপরে, সীতাকুন্ডে'র ধারে কাছেও না। তবে উপরে হাইকিং এর ভালো জায়গা আছে, বেশ উপরে উঠা'র পর দেখি বিস্তৃত জায়গা প্রায় সমতল -- মালভূমি'র মতো।

গাড়ি নিয়ে একদম Dobbin's Lookout পর্যন্ত যাওয়ার ব্যাবস্থা-ও আছে; ভালো মানের সাইকেল থাকলে এবং "সাইক্লিং" এর অভ্যাস থাকলে সাইকেল চালিয়েও চূড়ায় উঠা যায়। তবে আমার-টার মতো স্বস্তা "পঞ্চাশ-টিক্কা, ছেকেন্ হ্যান্ড, পিছের চাক্কার ব্রেক ছাড়া" সাইকেল হলে নিচে গাছের সাথে তালা দিয়ে হেঁটেই উঠতে হবে।



Dobbin's -এ উঠার পর খেয়াল করলাম এইটা এইখানকার সবচেয়ে উঁচু শৃঙ্গ না, আশেপাশে আর বেশ কিছু উঁচু উঁচু পাহাড় আছে। বেশ কিছুক্ষণ সেখানে কাটিয়ে সেটা থেকে কিছুটা নিচে নেমে পার্শ্ববর্তী আরেকটা চূড়ায় উঠলাম। সেটা একদম পাথুরে।
একটা শৃঙ্গ থেকে আরেকটায় যাওয়ার পথে মালভূমি'র মতো জায়গাটায় খেয়াল করলাম বেশ বড়সড় শুকিয়ে যাওয়া স্রোতধারার (stream) দাগ রয়েছে। দেখলে বোঝা যায় এখান দিয়ে এককালে খরস্রোতা ঝর্ণাধারা বয়ে যেতো। Stream-গুলা বালি/নূড়িময় - ওগুলাতে হাঁটা কষ্ট। 
ফিরে আসার সময় সাইকেল নিয়ে যাওয়ার সুবিধা টের পেলাম। South Mountain-এর পাদদেশ থেকে Downtown Phoenix পর্যন্ত পুরা রাস্তাই ঢালু/উৎরাই ... ফলে, নামমাত্র প্যাডেল চেপেই প্রায় সাড়ে ছয় মাইল রাস্তা পার হয়েছি। 
তবে শুধু সামনের চাকার ব্রেক নিয়ে এই রাস্তায় সাইকেল চালানো-টা বেশ বিপদজনক।

সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

"পাপাগো পার্কে"-এ এক বিকালে

বিকালবেলা খুব নিঃসঙ্গ লাগে, ঘরে মন টিকে না, হাঁটার জন্য 'পা চুলকায়', মন চায় - যে দিকে দুই 'পা' যায় সেদিকে চলে যাই। কাঁটাতরু ক্যাকটাসের সংসর্গে গেলে পায়ের এই চুলকানি হয়তো কিছুটা লাঘব হবে এই আশায় আজকে বিকালে বের হয়েছিলাম মরুর বুকে মরুদ্যানের সন্ধানে, কিন্তু আমার "পাষাণ" "ছিদ্রান্বেষী" মন আমাকে টেনে নিয়ে গেল "Hole in the Rock" এ (Scottsdale -এর Papago Park এর কাছে)।

পাথুরে টিলাটার নিচে গিয়ে দাঁড়ালাম। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে চিন্তা করতে লাগলাম কীভাবে উপরে উঠবো। আমি আসার কিছুক্ষণ আগে একদল অভিযাত্রী এইপাশ দিয়েই উপরে উঠেছে দেখেছি। আমি উপরে ওঠার যুতসই পথ খুঁজতে লাগলাম। একটা সরু পথের মতো পেলাম, কিন্তু ঢাল-টা বেশ খাঁড়া। এখানে সেখানে কিছু ছোটখাটো গর্ত আর কিছু উঁচু হয়ে থাকা পাথর অবশ্য আছে, কিন্তু সেগুলা ছড়ানো ছিটানো। তাছাড়া এই টিলা আমাদের সিলেটের উর্বর মাটির গুল্মসমৃদ্ধ টিলা না যে পা পিছলে গেলে গাছের গোড়া-টা ধরে কিংবা মাটি-টা খামচে ধরে পতন ঠেকাবো। এই ঢাল বেয়ে উঠতে শুধুমাত্র শক্তসমর্থ পা-টা থাকলেই চলবে না, বুকের 'পাটা' থাকাও জরুরী।
ফিরে যাবো চিন্তা করছি এমন সময় দেখি আরও এক দল অভিযাত্রী এসে উপস্থিত, একটা পরিবারই হবে, বাপ-মা এবং পনের-ষোল বছরের একটা মেয়ে। আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই দেখি বিভিন্ন কসরৎ করে সেই "দূর্গম" ঢাল বেয়ে তারা সপরিবারে তরতরিয়ে উপরে উঠে গেলো ! আমি পড়ে গেলাম লজ্জ্বার মধ্যে। এর মধ্যে দেখি এরা উপরে উঠে আমার দিকে ফিরে ফিরে তাকাচ্ছে; আমি কী করি সেটা দেখা'র জন্যই হয়তো (মনে হল যেন একটু মিটিমিটি হাসছে-ও, কী জানি হয়তো আমার চোখের ভুলই হবে, দূর থেকে দেখেছি তো...)।
আমি খানিকটা এদিক সেদিক তাকিয়ে, কিছুক্ষণ ইতস্তত করে অবশেষে উঠা শুরু করলাম। পথের দুই পাশে'র পাথুরে দেয়ালে হাত দিয়ে ঠেস দিয়ে উঠতে হচ্ছে। মাঝপথে এসে একটু জিরানোর জায়গা পাওয়া গেলো, খানিক-টা সমতল। ব্যাপারটা যতোটা কঠিন ভেবেছিলাম আসলে তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। পরের অংশ-টুকু আরও বেশি খাঁড়া এবং চিপা। বুক ধড়ফড় করতে লাগলো। নেমে যে যাবো সে উপায়ও নাই, নীচের দিকে নামতে গেলে পিছলে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি। ...
যাই হোক, বর্ণনা আর দীর্ঘায়িত করলাম না। যেহেতু এই লেখা লিখছি, বুঝাই যাচ্ছে শেষ পর্যন্ত আমি মরি নাই। ওজনের দিক থেকে মেট্রিক পদ্ধতিতে 'নার্ভাস-নাইন্টিস্‌'-এ থাকা (অল্পের জন্য 'সেঞ্চুরি' করতে না পারা) আমার এই দশাসই বপুখানা নিয়ে হাঁচড়ে-পাঁচড়ে কোনমতে উপরে উঠতে সক্ষম হয়েছি। উপরে উঠে আশেপাশে'র দৃশ্য দেখে অবশ্য মন-টা ভালো হয়ে গেল। লোকজন এইখানে আসে মূলত সন্ধ্যা'র সময়েই, সূর্যাস্ত দেখা'র জন্য। আমি সময়মতোই গিয়েছিলাম। খুবই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
উপরে ওঠার পর থেকেই একটা দুশ্চিন্তা পেয়ে বসলো, উঠে তো গেলাম, নামার সময় কি এই ঢাল ধরেই নামতে হবে? হঠাৎ খেয়াল করে দেখলাম, উপরে অনেক লোকের মধ্যে একটা চার-পাঁচ বছর বয়সের বাচ্চা ছেলেও আছে। তখনই সন্দেহ হল। এদিক সেদিক খুঁজতে লাগলাম। যা ভেবেছিলাম তাই, টিলা'র অপর পাশে'র ঢাল প্রায় সমতল বললেই চলে। অহেতুক ওই খাঁড়া ঢাল বেয়ে এইখানে উঠেছি। ঘুরে অপর পাশ দিয়ে স্বাভাবিক ভাবে হেঁটে উঠলেই পারতাম।
শিক্ষা ১ঃ দূর্গম এবং বিপদজনক পথে নামার (/উঠার) আগে ভালোভাবে নিশ্চিত হওয়া উচিত যে এছাড়া আর কোন বিকল্প পথ নেই।
শিক্ষা ২ঃ আমেরিকান-রা অনেক উদ্ভট কাজই খুব অনায়াসে হাসতে হাসতে করে, সেগুলার সব আমার উপযোগী এবং অনুকরণীয় তো নয়ই, বরং অনেক ক্ষেত্রেই বর্জনীয়।
















[ লেখাটা ফেসবুকে'র এই পোস্ট থেকে কপি পেস্ট করা।
সেখানে ছবিগুলো দেখা যাবে আশা করা যায়। ]

শনিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

চেইজ ফিল্ড - স্টেডিয়ামে বেইজবল খেলা দেখা

ডিপার্টমেন্ট থেকে নতুন পি এইচ ডি ছাত্র-ছাত্রী-দেরকে বেইজবল খেলা দেখতে নিয়া গেছিলো।
আমার ধারণা ছিল বেইজবল 'আউট-ডোর' খেলা। কিন্তু এইখানে দেখি সবদিক আবদ্ধ পুরাপুরি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশাল 'ইনডোর' স্টেডিয়াম। (অবশ্য খোলামেলা হলে এরিজোনা'র উত্তপ্ত আবহাওয়ায় বাহিরে বসে খেলা দেখতে লোকজন আসতো না।) আমার জীবনে প্রথমবার কোন স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে আসা। দেশেও কোনদিন কোনো খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে যাই নাই, এইখানে মাগনা পাইয়া আসলাম। এইসব বল ছোড়াছুড়ি দেখার কিছু নাই, বিশেষতঃ খেলার নিয়মকানুন যেহেতু ভালোভাবে জানি না। আমি ফ্রি খাবারদাবারের লোভেই মূলত গেছিলাম। কিন্তু গিয়ে দেখি আমার খাওয়ার উপযোগী খাবার বলতে শুধু চিপস, বাদাম আর মাংসহীন "গরম-কুকুর" (Hotdog বানানোর বন-রুটি-টা শুধু)। এর সাথে ছিল অবারিত 'কার্বনেটেড' বারি-ধারা (soft- drinks)।

আমরা যাওয়ার আগে অবশ্য ডিপার্টমেন্টের এডভাইজার-রা আমার মতো গণ্ড-মূর্খ ছেলেপেলেদের জন্য বেইজবল খেলা সম্পর্কিত একটা নাতিদীর্ঘ লেকচারের আয়োজন করেছিলো - সম্ভবত আমরা যাতে গ্যালারি-তে বসে কখন করতালি দিতে হবে সেটা সময়মত বুঝতে পারি এটা নিশ্চিত করার জন্য। সেখান থেকে পাওয়া জ্ঞান অনুযায়ী আপাতত এইটুকু শুধু বুঝতে পেরেছি যে ক্রিকেটের সাথে কিছুটা সামঞ্জস্য আছে, এইখানেও রান হয় - তবে সেটা কালেভদ্রে হয়। এক খেলায় এক টিমের ১০-১৫ রান হওয়া মানে বিশাল ব্যাপার।



ফেরার পথে "লাইট-রেইল" স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে করতে রাস্তার পাশে কয়েকটা ছেলের 'স্ট্রিট পারফর্মেন্স' (বাদ্য বাজানো) দেখলাম। লোকজন পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এক-দুইটা টাকা দিয়ে যাচ্ছে। এর আগে স্ট্রিট পারফর্মেন্স্‌ বলতে মানসম্মত যা দেখেছি সেটা প্রায় এক যুগ আগে চট্টগ্রাম থেকে সিলেট-গামী জালালাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনে ভ্রমণে'র সময় এক লোকের দোতারা বাজানো। আশ্চর্য বিষয় হল, একদিন মাত্র শোনা সেই দোতারার সুর আমার কানের পর্দা থেকে এখনও মুছে যায় নাই। আজকের এই স্ট্রিট পারফর্মেন্স্‌ এর সুর হয়তো মুছে যেতো, তাই ভিডিও করে আনলাম।

[দ্বীনি-পরহেজগার ভাইয়েরা ভিডিওটা না দেখলেই ভালো হয়। (এই কথা শুনে আবার যেসব দুষ্টু ছেলে "দ্বিগুণ আগ্রহে" ভিডিওটা দেখতে যাবে তারাও অবশ্য আশাহত হবে) ]

এই লেখা ফেসবুকে এই পোস্ট থেকে হুবহু কপি করা। ছবি এবং ভিডিও ফেসবুকে'র পোস্টে পাওয়া যাবে।

শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

লাস ভেগাস - ঝটিকা সফর

ঈদ*, Weekend এবং Labor Day মিলিয়ে মোটামুটি তিনদিনের ছুটি ছিল এই সময়। Arizona-তে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী সঙ্ঘ (BSA)-এর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হাসিব ভাই এবং ফার্স্ট লেডি নাঈমী আপু'র বাসায় ঈদের রাতে এক অনানুষ্ঠানিক মিলনমেলায় কয়েকজন মিলে হুট করে এই ট্যুরটা'র পরিকল্পনা করা হয়। পরদিন ০২ সেপ্টেম্বর দুপুরে দুইটা গাড়িতে চড়ে আমরা দশজন ভ্রমণ-পিয়াসি যাত্রি রওয়ানা দিলাম পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্য নেভাডায় অবস্থিত লাস্‌-ভেগাস-এর উদ্দেশ্যে...।

( *আসলে ঈদের দিন ছুটি ছিল না আমাদের কারোই, তবে ভ্রমণে বের হওয়া আকাঙ্ক্ষা জোরালো হয়েছিলো ঈদে'র আনন্দের প্রভাবে। তবে আরও একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক ছিল "প্রেসিডেন্ট-কুমার" রুদ্র। সে সেদিন সন্ধ্যা থেকে "ভেগাস যাবো", "ভেগাস যাবো" বলে সারাক্ষণ আবদার চালিয়ে যাওয়ার কারণে সেটা আমাদের উপর প্রভাব ফেলে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। শেষ পর্যন্ত 'প্রেসিডেন্ট-তনয়' নিজেই অবশ্য যেতে পারে নাই - সেটা ভিন্ন ইতিহাস ...)

এরিজোনা'র ঝকঝকে পরিষ্কার আকাশের প্রশংসা করতে করতে এবং অনাবৃষ্টিকে দোষ দিতে দিতে আমরা ভালই এগুচ্ছিলাম ৯৩ নম্বর হাইওয়ে ধরে ভেগাস-এর উদ্দেশ্যে। হঠাত্‌ আকাশ কালো করে শুরু হলো ধূলিঝড় এবং বৃষ্টি। বাতাসের তীব্রতা এতো বেশি ছিল যে এর মাঝে আমাদের গাড়ি চালানো কষ্টকর হয়ে গিয়েছিলো, কিছুক্ষণ রাস্তা'র পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়েছিলো। এর মধ্যে পুব আকাশে আবার হেসে উঠলো প্রচণ্ড উজ্জ্বল রংধনু। আমি জীবনে এতো উজ্জ্বল রংধনু এই প্রথম দেখলাম। পুরোটা পথ আমরা উপভোগ করলাম আকাশে, পাহাড়ে এবং উপত্যাকাগুলোতে সূর্যের আলোর বৈচিত্র্যময় কারুকার্য।



ভেগাসে পৌঁছাতে সন্ধ্যা আটটা'র মতো বেজে গেলো। "Super-8" হোটেল-টা শহর থেকে কিছুটা দূরে - Nellis Air Force Base​ -এর কাছে। হোটেলে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আমরা আবার তাড়াতাড়ি বের হয়ে পড়লাম ভেগাস-স্ট্রিপ এর উদ্দেশ্যে - যেটা দেখা'র উদ্দেশ্যে এই ভ্রমণ। এইবার আর নিজেদের আনা গাড়ি নিয়ে যাই নাই, ভেগাস্‌-স্ট্রিপে পার্কিং নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ার আশঙ্কায়। 'Uber'-এর মাধ্যমে দুইটা গাড়ি ভাড়া করে সেখানে গেলাম।


Las Vegas Strip​ পুরাটাই হোটেল এবং ক্যাসিনো-ময়। অত্যন্ত আলোকোজ্জ্বল শহর। মানুষজন এইখানে মূলত অবকাশযাপন করতেই আসে। এখানে দেখার মতো জায়গা বলতে এইসব হোটেল এবং ক্যাসিনো'র জৌলুশ-পূর্ণ সাজ-সজ্জা। এছাড়া উপভোগ করার মতো আরও অনেক কিছুই আসলে ছিল, কিন্তু সেগুলা'র অধিকাংশই হয় আমাদের রুচির বিপরীত এবং/অথবা সাধ্যে'র বাইরে। ইচ্ছা এবং সাধ্য থাকলে এইখানে টাকা উড়ানোর ভালই বন্দোবস্ত আছে (বিশেষত জুয়া খেলা'র জন্য বিশ্ববিখ্যাত এই Las Vegas)।

সেই রাতে আমরা মূলত ভেগাস-স্ট্রিপে হাঁটাহাঁটি করলাম আর শহরের আলকসজ্জ্বা উপভোগ করলাম। Bellagio Casino Hotel​ এর সামনে Water Show টা বেশ সুন্দর লেগেছে।

এছাড়া খুব দারুণ লেগেছে The Venetian Las Vegas​. এটা Italy'র ভেনিস নগরীর আদলে তৈরি করা হয়েছে - কৃত্রিম নদী, নদীতে-নৌকা এবং সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল কৃত্রিমভাবে তৈরি করা আকাশ। আমরা রাত ০১-টা'র দিকে সেখানে গিয়ে হালকা মেঘযুক্ত নীল আকাশ দেখে প্রথমে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছিলাম।



পরদিন সকালে আবার গেলাম ভেগাস-স্ট্রিপ দিনের বেলায় কেমন দেখায় সেটা দেখার জন্য। দিনে'র বেলায় কৃত্রিম আলো'র পরিবর্তে সূর্যের আলোয় শহরটা আমার ভালই লেগেছে। নিউ ইউর্ক, মস্কো, ভেনিস, মিশর এইরকম পৃথিবী-বিখ্যাত বিভিন্ন শহরের বৈশিষ্ট্য-সম্বলিত ডিজাইনের মাধ্যমে এইখানকার হোটেল/রিসোর্ট-গুলো তৈরি করা হয়েছে। ভেনিসিয়া'র কথা তো বললাম উপড়ে, এছাড়া আছে পিরামিড এবং ফারাও-এর মাথা দিয়ে সাজানো Luxor Hotel, স্ট্যাচু অব লিবার্টি এবং উঁচু-উঁচু বিল্ডিং সম্বলিত নিউ ইউর্ক।




ফেরার পথে Hoover Dam​ দেখতে গেলাম। পাহাড়ি এলাকা; কলোরাডো নদীতে বাঁধ দেয়া হয়েছে সেখানে। মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। তবে দুপুরের কড়া রোদে'র কারণে গাড়ি'র বাইরে বের হয়ে বেশিক্ষণ দাঁড়ানো যাচ্ছিলো না - তাছাড়া আমাদের হাতে সময় কম ছিল বিধায় আমরা দ্রুত এলাকাটা দেখে নিলাম। সবচেয়ে সুন্দর লেগেছে Mead Lake Overlook। ওখানে পাহাড়ের চূড়া থেকে বিশাল Lake Mead​ দেখা যায়।


With:
Sameena Hossain​ , আয়ান, Ai Michael​, Shazia Zerin​, Nabia Akter Tusty​,  Shammo Shanando Saha​, Sheikh Minhaj Hossain​ এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দম্পতি।

এঁদের মধ্যে সাম্য, তুষ্টি এবং সেই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দম্পতি এর আগেও কয়েকবার লাস-ভেগাস এ গিয়েছিলো। শুধুমাত্র আমাদেরকে ঘুরিয়ে আনার জন্য সেখানে (৬ ঘণ্টা ড্রাইভিং দূরত্বে) আবার গিয়েছে। এইজন্য তাদের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ আমি।।

এই লেখা মূলত ফেসবুকে ভেগাস-ট্রিপের পর আপলোড করা ছবি'র এলবামের বিবরণ।